- বাঁক সরিয়ে রাস্তা সোজা করা: বেশ কিছু জায়গায় রাস্তার বাঁকগুলো খুবই বিপজ্জনক। এগুলো সরিয়ে রাস্তা সোজা করা গেলে দুর্ঘটনা কমতে পারে।
- সড়ক প্রশস্তকরণ: স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, মহাসড়ক হলেও এটি এখনো দুই লেনের রাস্তাই রয়ে গেছে। অন্তত চার লেনের ব্যবস্থা করা হলে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং দুর্ঘটনা কমবে।
- ডিভাইডার ও গতিরোধক স্থাপন: বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে গতিরোধক বসানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
- চালকদের প্রশিক্ষণ ও সতর্কীকরণ: যারা বাইরের জেলা থেকে গাড়ি চালাতে আসছেন, তাদের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের জাঙ্গালিয়ায় বারবার দুর্ঘটনার কারণ কি?
ঢাকা রিডার ডেস্ক
মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় তিনটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৫ জনের প্রাণহানি, আহত কমপক্ষে ৩০ জন—এমন মর্মান্তিক পরিসংখ্যান যেন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার চিত্র হয়ে উঠেছে। উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ, বিপজ্জনক বাঁক, সরু রাস্তা এবং অপ্রত্যাশিত লবণাক্ত পানি মিশে থাকা সড়ক -সব মিলিয়ে এই অংশ যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটটি দুর্ঘটনাপ্রবণ। বিশেষ করে ঈদ ও পর্যটনের মৌসুমে দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আসা চালকরা অচেনা ও সরু রাস্তায় বিপাকে পড়েন। এ কারণে দ্রুতই মহাসড়কের এই অংশ প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকা চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে। এই সড়কের তিন কিলোমিটারজুড়ে রয়েছে ঢালু পথ ও বেশ কয়েকটি ভয়ংকর বাঁক। দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এই বাঁকগুলোর তীক্ষ্ণতা, রাস্তার অপ্রশস্ততা এবং লবণাক্ত পানি জমে স্লিপারি হয়ে যাওয়া।
ঈদের একদিন পর বুধবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী একটি মাইক্রোবাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা রিলাক্স পরিবহনের একটি বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মাইক্রোবাসে থাকা ১০ জন যাত্রী প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে রিলাক্স বাসের এক যাত্রী বলেন, “বাস চালক বাঁক নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ব্রেক করতে গেলে সোজা মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।”
এ দুর্ঘটনার মাত্র একদিন আগে, একই এলাকায় একটি বাস ও মিনিবাসের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। পরদিন সকালে আরও একটি দুর্ঘটনায় দুটি মাইক্রোবাস খাদে পড়ে গেলে অন্তত ১২ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার কারণ কী?
স্থানীয় পুলিশ, চালক এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো হলো—
১. বেপরোয়া গতি ও অভ্যস্ততার অভাব: দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটকবাহী গাড়ির চালকরা এই পাহাড়ি পথে চালাতে অভ্যস্ত নন।
২. বাঁক ও রাস্তার ঢাল: রাস্তার বাঁকগুলো খুবই বিপজ্জনক। তীক্ষ্ণ বাঁকের কারণে দ্রুতগতির গাড়িগুলো সহজেই দুর্ঘটনার শিকার হয়।
৩. লবণাক্ত পানি ও পিচ্ছিল রাস্তা: কক্সবাজার থেকে আসা লবণ বোঝাই ট্রাকগুলোর কারণে সড়কে লবণের পানি পড়ে এবং রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়।
৪. রাস্তার সংকীর্ণতা: মহাসড়ক হলেও অধিকাংশ জায়গায় রাস্তা মাত্র দুই লেনের।
চালকদের অভিজ্ঞতা কী বলছে?
মার্শা পরিবহনের নিয়মিত চালক আবদুল আজিজ বলেন, “এখানে ঢালু পথ এবং বাঁক অনেক বেশি। তার ওপর রাস্তা পিচ্ছিল থাকে, বিশেষ করে সকালের দিকে। আমরা যারা নিয়মিত এই রুটে গাড়ি চালাই, তারা জানি কীভাবে চলতে হবে, কিন্তু বাইরের জেলার চালকরা তা জানেন না। তাই তাদের গাড়িগুলোই বেশি দুর্ঘটনায় পড়ে।”
হাইওয়ে পুলিশের এসআই মো. আব্দুল মতিন বলেন, “ঈদের দিন যে জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, ঠিক তার ৩০ গজের মধ্যে আবার দুর্ঘটনা ঘটল। এটা প্রমাণ করে যে রাস্তার এই অংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।”
কী হতে পারে সমাধান?
সড়কটি ঝুঁকিমুক্ত করতে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ও স্থানীয়রা বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন।