
দখল-চাঁদাবাজিতে আওয়ামী লীগ বদলে বিএনপি-
ক্ষমতাচ্যুত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশত্যাগর পর থেকে মাঠের পরিস্থিতি একেবারে বদলে যায়। পাড়ায় মহল্লায় বিজয়-মিছিল আর মিষ্টি বিতরণ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সময়ে সারাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকে দেশ ছাড়েন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে যেভাবে আসছেন বিএনপিপন্থিরা, সেভাবে আওয়ামী লীগপন্থিদের গা ঢাকা দেওয়ার মধ্যে ‘মাঠের দখলও’ নিয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগের বিদায়ে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলেও ফার্মগেট এলাকার একজন সবজি বিক্রেতার অভিযোগ, “তার জন্য পরিস্থিতি আগের মতোই আছে। আগে আওয়ামী লীগের লোকজন দৈনিক চাঁদা নিত। এখন বিএনপির লোকজন তা নিচ্ছে বা নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যেন ওরাই ক্ষমতায় চলে আসছে।” চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে শুধু ‘চেহারাটা’ পরিবর্তন হওয়ার কথা তুলে ধরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, “আমার জন্য পরিবর্তনটা আর হইল কই!” কল্যাণপুরের পোড়া বস্তির ভাঙারি ব্যবসায়ী হানিফ মোহাম্মদ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরপরই স্থানীয় (১১ নম্বর ওয়ার্ড) এক বিএনপি নেতার ভাই দাদা রিপন ‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে প্রায় ৩০-৪০টি ঘর-দোকান দখল করে নেয়। কয়েকজনকে মারধর করে ঘরছাড়া করে। তিনি বলেন, “এলাকায় এইসব নিয়া খুব আতঙ্কে সবাই। অনেকেই গেছে বিএনপি নেতা খালেক সাহেবের ছেলে সাজু সাহেবের কাছে। উনি আবার লোক পাঠাইয়া যাদের ঘরছাড়া করছিল তাদের ঘরে তুইলা দিছেন। তবে বস্তির আওয়ামী লীগের একটা অফিস আর নেতাদের কয়েকটি ঘর তারা (বিএনপি নেতার ভাই) দখলে রাখছে।” জানতে চাইলে মিরপুর-দারুসসালাম এলাকা থেকে বিএনপির প্রার্থী হওয়া এস এ সিদ্দিক সাজু বলেন, এ ধরনের ঘটনা শোনার পর আমরা লোক পাঠিয়ে, লিফলেট বিলি করে, নেতাকর্মীদের দিয়ে মিছিল করিয়ে তাদের নিবৃত্ত করেছি। চারদিকে প্রচুর দুর্বৃত্ত। ”আমরা এলাকায় এলাকায় মাইকিং করিয়েছি যে কেউ কোনো প্রকার জুলুম করলে তাদের সরাসরি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। যেখান থেকে অভিযোগ এসেছে সেখানেও লোক পাঠিয়ে এগুলো যাতে কেউ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রচুর এ্যাফোর্ড দিতে হচ্ছে।” দখল-বেদখলের লড়াই চলছে দেশের বড় পাইকারি কাঁচামালের বাজার কারওয়ান বাজারেও। ক্ষমতার পালাবদল হলেও চাঁদা দেওয়ার রেওয়াজ বদল হয়নি; চাঁদা গ্রহিতার চেহারা বদল হয়েছে। সেখানকার এক আড়তদারের ভাষ্য, কয়েকটা গ্রুপ এখন অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাতে যখন সবজির ট্রাক আসে তখন ট্রাকপ্রতি চাঁদা দিতে হয়। আবার এখানকার নেতারা ঠিক করে দেন কারা এখানে ভ্যান চালাবে। তারাও মাসিক বা সাপ্তাহিক হিসেবে চাঁদা দেন। চাঁদা ছাড়া এখানে কেউ ব্যবসা বা কাজ করতে পারে না। আড়ত মালিক মোজাম্মল হোসেন বকুল বলেন, ”গত রোববার ছাত্ররা বাজারে এসে তাদের ৪০ টাকা কেজি দরে আলু বেচতে বলে। আমরা তাদের বিষয়গুলো বোঝানোর চেষ্টা করি। এখানে চাঁদা না দিলে যে ব্যবসা হয় না সেটা তাদের বলি। তাদের জানাই যে আলু ৫০ টাকার বেশি কেনা থাকায় তারা ওই দামে বেচতে পারবেন না। কিন্তু ছাত্ররা তাদের কথা না শুনে কান ধরতে বলেছিল।“ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানে ১১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, কারওয়ান বাজার ইউনিট আওয়ামী লীগসহ অনেকগুলো ইউনিট কাজ করত। কারণ এই বাজারকেন্দ্রীক রাস্তা, ফুটপাত, মাছ বাজার, সবজির আড়ত, ট্রাক পার্কিং ইত্যাদি খাত থেকে প্রতিদিন অর্ধ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। এর ভাগ নিতেই এখানে এত এত নেতা ছিল। এর মধ্যেই শ্রমিক লীগের অফিসটি দখল হয়ে গেছে। মার্কেটে মার্কেটে নতুন নেতারা আনাগোনা শুরু করেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের আশপাশে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বসে হরেক রকম খাবারের দোকান। এখানে আশপাশের এলাকার লোকজন পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসেন। সোমবার সেখানকার একটি বার্গারের দোকানের কর্মী আরিফুল বলেন, সংঘাতের কারণে বেশ কয়েকদিন দোকান বন্ধ রাখার পর শনিবার থেকে খুলতে শুরু করেছে। তবে এই দুইদিনে কাউকে টাকা দিতে হয়নি। তিনি বলেন, এখানে প্রতি ফুডকার্টের প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হত লাইনম্যানকে। তবে কয়েকদিন ধরে পুরনো লাইনম্যান আসছে না। নতুন লোকজন আনাগোনা শুরু করেছে। তবে এখনও দর নির্ধারিত হয়নি, কে চাঁদা নেবে সেটাও নির্ধারিত না হওয়ায় এখনও তাদের চাঁদা দিতে হচ্ছে না। তার ভাষ্য, “শনিবার এখানে সিটি কর্পোরেশনের হলিডে মার্কেট বসত। ওই মার্কেটে একদিন দোকান বসাতে জন্য দেড় হাজার টাকা দিতে হত।” মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কার্যালয় দখল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। কার্যালয়টিকে তিনভাগে ভাগ করে তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। পুরান ঢাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ নেতা ওমর বিন আজিজ তামিমের কার্যালয়ও দখল হয়েছে। সরকার পতনের দিন ৫ অগাস্ট বিকালে মিছিল নিয়ে এসে একদল লোক অফিস ভাঙচুর করে দখলে নেয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরদিন থেকে কার্যালয়টিতে হোসনী দালানের নিজস্ব সম্পত্তি নামক ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তামিম বলেন, “দখল তো করে ফেলেছে, আপাতত কে বা কারা করেছে কিছু বলার মত অবস্থা নাই। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।”কী বলছে বিএনপি নেতারা-
দেদারছে দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হচ্ছে দাবি করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কলুষিত করতে, বিতর্কিত করতে পতিত স্বৈরাচার ও একটি মহল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় দখলের সাথে বিএনপিসহ আন্দোলনকারীরা জড়িত বলে বেড়াচ্ছে। এটা পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসর ঘটনা ঘটিয়ে এর দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চায়।” “আমাদের দলের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, কোথাও যদি এ ধরনের অপকর্মের সাথে দলের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার। আপনারা দেখবেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে দলের কারও বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কেনো ছাড় দেওয়া হবে না।”ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে নতুন মুখ-
ক্ষমতার পালাবদলে রাজধানী ঢাকার বর্জ্য পরিবহন ব্যবস্থায় হাত বদল হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা গা ঢাকা দেওয়ায় ঢাকার দুই সিটি করপোরশেনের ওয়ার্ডে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজের দখল নিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিছু ওয়ার্ডে আগে অবৈধভাবে যেসব কাজ দখল করে রাখা হয়েছিল সেগুলোর দায়িত্ব নিয়োগ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফিরে পেয়েছে। ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক ধাপের কাজটি করে প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডার বা পিডব্লিউসিএসপি’রা। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে ভ্যানে করে গৃহস্থালী বর্জ্য সংগ্রহ করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ট্রাকে করে বর্জ্য নিয়ে যাওয়া হয় ল্যান্ডফিলে। উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩০০টি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজটি করে। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি প্রতিষ্ঠানকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ দেওয়া হয়। সেসব প্রতিষ্ঠান আবার একাধিক ব্যক্তিকে এলাকা ভাগ করে দেয়। বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য পিডব্লিউসিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি বাড়ির জন্য নির্দিষ্ট টাকা আদায় করে। এলাকাভেদে ওই চাঁদার হার ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। বর্জ্য সংগ্রহের কাজটি এতদিন নিয়ন্ত্রণ করত স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ খাতে প্রতি মাসে শত কোটি টাকার বেশি আদায় করা হয়। ডিএনসিসির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের (আগারগাঁও) এলাকার বর্জ্য সংগ্রহের লাইসেন্স ছিল এটুজেড মিডিয়া অ্যান্ড সোশ্যাল সার্ভিস সেন্টার নামে একটি কোম্পানির। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ফোরকান হোসেন এতদিন এটি দখলে রেখেছিলেন। ৫ অগাস্টের পর ফোরকান এলাকা ছেড়েছেন। এখন বর্জ্য সংগ্রহের কাজটি নিয়েছেন এটুজেড মিডিয়া অ্যান্ড সোশ্যাল সার্ভিস সেন্টারের মালিক মো. নাজমুল হক পান্না। মঙ্গলবার নাজমুল হক পান্না বলেন, “লাইসেন্স ছিল আমার নামে, কিন্তু ফোরকান এটি গত সাড়ে চার বছর ধরে তার দখলে রেখেছিল। আমি অনেক জায়গায় গিয়েছি, অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি। ৫ তারিখের পর আমারটা আমি বুঝে নিয়েছি।” ঢাকার মহাখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যারা বর্জ্য সংগ্রহ করে টিঅ্যান্ডটি কলেজের পাশের এসটিএসে এনে ফেলা হয়। মঙ্গলবার সেখানে নিয়ে বর্জ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ভ্যানচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে যারা নিয়ন্ত্রণ করতেন তারা এখন নেই। নতুন লোকজন এসেছে। রাশিদুল হাসান নামে একজন ভ্যানচালক বলেন, “তিনিসহ চারজন ভ্যানচালক সানোয়ার নামে একজনের অধীনে কাজ করতেন। ভ্যানচালকদের বেতন ১২ হাজার টাকা। গত ৫ অগাস্টের পর থেকে সানোয়ার পলাতক। বিএনপির লোকজন দখল নিয়েছে। উনি বিএনপির নেতা ছিল কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে চলত। এজন্য পালাইছে। এখন বিএনপির যারা আছে তারা এইটা কন্ট্রোল করার চেষ্টা করতেছে। আজকে আমাকে বলছে বিল তুইলা তাদের কাছে জমা দিতে।” ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও বর্জ্য সংগ্রহের কাজ এখন আর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে নেই। ডিএসসিসির ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণের লাইসেন্স আছে এমন একজন আওয়ামী লীগ কর্মী মঙ্গলবার বলেন, “প্রতি বছর জুলাই মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহের কাজ দেওয়া হয়। তিনি ১২ লাখ টাকা দিয়ে কাজটি নিয়েছিলেন। পরে পুরো ওয়ার্ডের বর্জ্য সংগ্রহের কাজ আরও পাঁচজনকে দিয়েছেন। ৫ অগাস্টের পর থেকে তিনি এলাকা ছাড়া। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সেগুলোর দখল নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পুরো কন্ট্রোল ওরা দখলে নিয়ে গেছে। এক গ্রুপকে ঠাণ্ডা করলে আরেক গ্রুপ নিয়ে টাকা নিয়ে আসে। টাকা না দিলে মারে। গত রোববার আমাদের ম্যানেজারের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে টাকা না দেওয়ায়। আমি এমনিতেই ঝামেলায় আছি, পালিয়ে বেড়াচ্ছি। নাম বললে বাসাবাড়িতে হামলা করতে পারে।” অপরদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়দাবাদ, কদমতলী, ধোলাই পাড় ও রসুলপুর এলাকায় বাসা বাড়ি থেকে বর্জ্য নেওয়ার ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি গ্রুপ। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পরিচয় দিয়ে এসব এলাকার কিছু ব্যক্তি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বর্তমানদের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে সমালোচনা এড়াতে দফায় দফায় তাদের সঙ্গে বৈঠকও করছে। বর্তমানে যাদের দায়িত্বে রয়েছে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিশনারদের কাছ থেকে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ নিয়েছিলেন। মূলত ওয়ার্ড কমিশনাররা এসব নিয়ন্ত্রণ করে পরিচালনা করেন পছন্দ অনুযায়ী দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে। ক্ষমতার পালাবদল হওয়ায় এ এলাকার নির্বাচিত কমিশনাররাও গা ঢাকা দিয়েছেন। দনিয়া নিয়ে গঠিত ৬১ নং ওয়ার্ডের কমিশনার জুম্মন মিয়া, দোলাইপাড় গেন্ডারিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত ৫১ নং ওয়ার্ডের কমিশনার কাজী হাবিবুর রহমান হাবু ও কদমতলী-মুরাদপুর এলাকা নিয়ে গঠিত ৫২ নং ওয়ার্ডের কমিশনার রুহুল আমিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি। কমিশনার রুহুল আমিনের মোবাইলে ফোন করা হলে আরেক ব্যক্তি তা রিসিভ করেন। নিজের পরিচয় না দিয়ে তিনি বলেন, নম্বরটি রুহুল আমিনের। আমি তার কাছের লোক। তিনি বাইরে আছেন, “তাকে এখন পাওয়া যাবে না।”-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অবলম্বনে।