Dhaka Reader
Nationwide Bangla News Portal

- Advertisement -

আলাউদ্দিন আলীর বর্ণাঢ্য জীবন

371

নিউজ ডেস্ক:
‘কেউ কোনদিন আমারে তো কথা দিলো না’, ‘শত জনমের স্বপ্ন’, ‘আছেন আমার মোক্তার’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘বাড়ির মানুষ কয়’, ‘বন্ধু তিনদিন তোর বাড়িত’, ‘কেঁদো না আর কেঁদো না,’ ও ‘ভেঙেছে পিঞ্জর’-এর মতো কালজয়ী অসংখ্য গানের সুরস্রষ্টা আলাউদ্দিন আলী। তার সুরে গান গেয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পীরা। অনেকে পেয়েছেন খ্যাতি।

বিশিষ্ট এই সুরস্রস্টা ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীত অঙ্গনসহ দেশের শোবিজে। ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে বাবার ভাড়া বাসায় তার জন্ম। পৈতৃক ভিটা মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে। তার বাবা ওস্তাদ জাদব আলীও ছিলেন গানের মানুষ।

চাকরি করতেন বাংলাদেশ বেতারে। মায়ের নাম জোহরা খাতুন। সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে আলাউদ্দিন আলী পরিচিত হলেও ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বেহালাবাদক হিসেবে। তার বেহালার সুরে মুগ্ধ হতেন সবাই। শৈশবে বেহালা বাজানোর জন্য ‘অল পাকিস্তান চিলড্রেনস’ প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালে বেহালাবাদক হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন আলাউদ্দিন আলী।

- Advertisement -

শুরুতেই প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার বাংলা মা’ তার পরিচালিত প্রথম গান। ১৯৭৫ সালে ‘সন্ধিক্ষণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম সংগীত পরিচালক হিসেবে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে আলাউদ্দিন আলীর। এরপর ১৯৭৭ সালে ‘গোলাপি এখন ট্রেনে’ আর ‘ফকির মজনু শাহ’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করে ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি।

সেই শুরু, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একে একে কালজয়ী বহু গান তৈরি করে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য এক উচ্চতায়। কাজের স্বীকৃতি সরূপ সাতবার সংগীত পরিচালক ও একবার গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন আলাউদ্দীন আলী। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের গানসহ প্রায় পাঁচ হাজার গান তৈরি করেছেন তিনি। অসংখ্য কালজয়ী গানের সংগীত পরিচালক ছিলেন আলাউদ্দিন আলী।

তার উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘ভালোবাসা যতো বড়ো জীবন তত বড় নয়’, ‘দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা খেলতে হয়’, ‘আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি’, ‘সূর্যাস্তেও তুমি ও আমার বাংলাদেশ’, ‘বন্ধু তিন দিন তোর বাড়ি গেলাম দেখা পাইলাম না’, ‘যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘চোখের জলে কথা কয়’, ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিল না’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’ ইত্যাদি। সুরকার আলাউদ্দিন আলী দেহ ত্যাগ করলেও তার সুর-তৈরি করা গান যুগ যুগ ধরে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে শ্রোতাদের হৃদয়ের মণিকোঠায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.