গাজীপুরে স্থানীয় যুবকদের সাথে ক্রিকেট খেলার সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. সজিব খানের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা, তবে নেটিজেনরা ওই সাংবাদিকের অপেশাদার আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।
জানা যায়, সম্প্রতি বাসন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. সজিব খান স্থানীয় কয়েকজন যুবকদের সাথে একটি মাঠে ক্রিকেট খেলছিলেন। খেলার বিরতিতে বা চলাকালীন তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। এসময় পাশে থাকা এক সাংবাদিক পরিচয়ধারী তার মোবাইল ফোনে এই দৃশ্য ভিডিও করতে শুরু করেন।
ভিডিও করতে দেখে এসআই সজিব খান অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাকে বাধা দেন এবং বলেন, “ভাই আমরা এখানে খেলতেছি, এখানে ভিডিও করার তো কিছু নাই।” কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি ভিডিও করা বন্ধ না করে তা চালিয়ে যান। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এসআই সজিব খান ব্যক্তিগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা ওই সাংবাদিকের এমন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা শুরু করেন। সাধারণ মানুষের মতে, পুলিশেরও ব্যক্তিগত জীবন এবং বিনোদনের অধিকার রয়েছে, যা সংবাদ বা বিতর্কের বিষয় হতে পারে না।
আয়াতুল্লাহ নোমান নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “তারা খেলছে এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। সে পুলিশ হোক আর যেই হোক, সবখানে ভিডিও করা লাগবে কেন ভাই??” আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “সমাজের কতো সমস্যা আছে, সেগুলো তুলে ধরেন। এখানে ভিডিও করার কী ছিল? মানুষের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কোনো সম্মান নেই আপনাদের কাছে?”
অধিকাংশ নেটিজেনই মনে করছেন, কোনো অপরাধ বা জনদুর্ভোগের সংবাদ না করে কারো খেলার মাঠের ভিডিও করা সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। নেটিজেনদের মতে, পুলিশের মাঠের খেলার ভিডিও করে ভাইরাল করার চেয়ে সমাজের প্রকৃত সমস্যাগুলো তুলে ধরাই একজন গণমাধ্যমকর্মীর আসল দায়িত্ব হওয়া উচিত। এই ঘটনায় ওই সাংবাদিকের অপেশাদার আচরণ নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়।