আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরনের জ্বালানি চুক্তিতে পৌঁছেছে ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রপ্তানি করবে কারাকাস। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের গন্তব্য চীনের বদলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঘুরে গেল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাম্পের দাবির প্রতি সাড়া দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, এ তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে, এই অর্থ ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। তেলবাহী জাহাজগুলো থেকে তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পাঠানো হবে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, গত এক দশকে চীনই ছিল ভেনেজুয়েলার প্রধান তেল ক্রেতা। কিন্তু নতুন চুক্তির ফলে প্রাথমিকভাবে চীনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা থাকা কার্গোগুলোকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন চায়, এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হোক, যাতে বিষয়টিকে তারা একটি বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারে। বর্তমানে মার্কিন সরকারের অনুমতির আওতায় ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর প্রধান যৌথ অংশীদার শেভরন যুক্তরাষ্ট্রে এই তেল সরবরাহের পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে।
ট্রাম্পের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ভেনেজুয়েলার লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিভিন্ন ট্যাংকার ও স্টোরেজ ট্যাংকে আটকা পড়ে ছিল। গত শনিবার মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ এখন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের হাতে। মাদুরোকে সরানোর পরপরই তেলের এই বিশাল চালান যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এল।