গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক মূল অভিযুক্তকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে পুলিশ। কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ হোসেন এই অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পরিচালিত অভিযানে সৌরভ নামের কাউকে ঘটনাস্থল থেকে আটক বা গ্রেপ্তারই করা হয়নি। অথচ একটি মহল পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে দাবি করছে যে, তাকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, অভিযানে হাসানুর ও সালমান নামের দুজনকে মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নিয়ম মেনেই তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি খালিদ হোসেন দাবি করেন, সৌরভ মূলত পুলিশকে মাদক উদ্ধারে তথ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে মাদক সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ বা থানায় কোনো মামলা নেই।
থানা সূত্রে জানা যায়, ওসি খালিদ হোসেন মাত্র দুই মাস আগে ডিসেম্বরে কাশিমপুর থানায় যোগদান করে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছেন। তার এই কঠোর অবস্থানের কারণে এলাকার অপরাধী চক্র ও স্বার্থান্বেষী মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গত দুই মাসে কাশিমপুর থানা পুলিশ মাদক ও সন্ত্রাস দমনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে গত ডিসেম্বর ও চলতি জানুয়ারি মাসে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ৭৪৮ পিস ইয়াবা, ২১৪ পিস ট্যাপেন্টাডল ও প্রায় ৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসব অভিযানে মাদক বিক্রির নগদ ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৪৫ টাকা জব্দসহ ৩২ জন মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ৪৬টি রামদা, ২টি করে বড় ছুরি, সামুরাই ও চাপাতি, ৫টি চাকু এবং ৭টি পেট্রোল বোমাসহ ১০ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি মো. খালিদ মোল্লা বলেন, “আমরা মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপসহীন। কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তির সুপারিশে অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। সৌরভকে গ্রেপ্তারের নাটক সাজিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য অসৎ। পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”